তিন বছরের ভোগান্তির অবসান
এলাকাবাসীর উদ্যোগে ভাঙা কালভার্ট সংস্কার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৭-২০২৬ ০৬:৩৯:৩০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৭-২০২৬ ০৬:৪০:২০ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘদিনের একটি ভাঙা কালভার্ট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় তিন বছর ধরে দুর্ভোগে থাকা হাজারো মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এলাকাবাসীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর পূর্ব চর আইরকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের রনি হাওলাদারের বাড়ির সামনের কালভার্টে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে অতিরিক্ত ভারবাহী অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রলি চলাচলের কারণে কালভার্টটির মাঝের অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উত্তর রমজানপুর ও দক্ষিণ রমজানপুরের মধ্যে চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে পারাপার করতে হতো। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় স্থানীয় রেজাউল ফকির, আবু সাঈদসহ কয়েকজন সমাজসেবী ব্যক্তি নিজেদের অর্থায়নে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করে কালভার্টটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি হাওলাদার বলেন, “কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হতো। রিকশা-ভ্যানও চলাচল করতে পারত না। স্থানীয় কয়েকজন নিজেদের অর্থায়নে কালভার্টটি সংস্কার করে দিচ্ছেন। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
সংস্কার উদ্যোগে অংশ নেওয়া রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ বলেন, “আমরা কোনো প্রচার বা প্রশংসার জন্য এই কাজ করিনি। প্রতিদিন ছোট ছোট শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখে বিবেকের তাড়না থেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কালভার্টটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের সবারই উচিত শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসা।”
পথচারী ইব্রাহীম বলেন, “যারা এই মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এমন উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।”
কালভার্টটির সংস্কারকাজে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ এলাকার জনদুর্ভোগ নিরসনে এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব হবে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স